প্রায় ১১৫০ বছরের পুরনো মন্দির দেবী বর্গভীমার। এই মন্দির ৫১ শক্তিপীঠ এর একটি অংশ । পুরাণ বলে যে সতী /পার্বতী মাতার বাম পায়ের গোড়ালি এখানে বিরাজিত । যখন ভগবান শিব তার সতীর পবিত্র মর দেহ নিয়ে উন্মাদ এর মত মহা ব্রহ্মান্ড নৃত্য করেছিল তখন ভগবান বিষ্ণু ব্রহ্মান্ডের কল্যাণহেতু তাঁর সুদর্শন চক্র দ্বারা সতীর পবিত্র দেহ ভিন্ন টুকরো করে দেয় তারই ফল সরূপ দেবী বর্গভীমা মায়ের আবির্ভাব।
দেবী বর্গভীমা আদিশক্তি সরূপা ভগবান শঙ্কর এই পৃথিবীতে অবতরণের আগে থেকেই তিনি বিরাজ করছেন।
তমলুকের প্রধান দেবী মা বর্গভীমার মন্দির (Ma Bargabhima Temple)। এই সতীপীঠের (Sati Pith) প্রধান উৎসব কাত্যায়নী চতুর্দশী তিথিতে বিশেষ পুজো এবং দুর্গাপুজো ।কয়েক হাজার বছর ধরে শক্তি স্বরূপিণী আদ্যাশক্তি মহামায়া রূপে দেবী বর্গভীমার আরাধনা চলে আসছে। মতান্তরে তিনি ভীমরূপা বা ভৈরব কপালী নামেও পরিচিত
মা বর্গভীমা মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে প্রচলিত রয়েছে । মন্দির কমিটির সম্পাদক
শিবাজি অধিকারী জানাচ্ছেন, একসময় এখানে রাজত্ব করতেন ময়ূর বংশীয় রাজা তাম্রধ্বজ।
শ্রীকৃষ্ণের অশ্বমেধ যজ্ঞের ঘোড়া তিনি আটকে দিয়েছিলেন। তখন শ্রীকৃষ্ণ নাকি স্বয়ং তাঁকেতাঁ ঘোড়া
ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। শোনা যায় সেসময় এক জেলে রাজবাড়িতে রোজ শোল মাছ
দিতেন। কিন্তু রোজ জ্যান্ত শোল মাছ সরবরাহ করা ছিল কঠিন কাজ। একদিন শোল মাছ মরে
যাওয়ায় কান্নাকাটি করছিলেন জেলে। সেসময় একটি অল্পবয়সী মেয়ে ওই জেলেকে বলে, পাশে
একটি কুণ্ড আছে, যার জল শোল মাছের ওপর ছিটিয়ে দিলে তা ফের জীবন্ত হয়ে উঠবে। সেই
মতো কাজ করেন জেলে এবং দেখেন মাছ জীবন্ত হয়ে উঠেছে। এরপর সেভাবেই রোজ জ্যান্ত
শোল মাছ সরবরাহ করতেন তিনি। কিন্তু তাতে রাজার মনে কৌতুহল জাগে। একদিন তিনি
জানতে চান কীভাবে রোজ জ্যান্ত শোল মাছ সরবরাব করেন জেলে। তখন আসল ঘটনা খুলে
বলেন ওই জেলে। এরপর রাজা সেখানে গিয়ে দেখেন কোনও কুণ্ড নেই, বরং রয়েছে এক প্রস্তর
মূর্তি।র্তি সেই মূর্তিকের্তি ই পুজোর ব্যবস্থা করেন রাজা। সেই রীতি মেনে আজও দুর্গা পু র্গা জর সময় প্রথম
পুজো আসে রাজবাড়ি থেকেই। তমলুকের (Tamluk) ময়ূর বংশীয় তাম্রধ্বজ রাজাই নাকি এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা।
কাহিনী অবশ্য এখানেই শেষ নয়, রয়েছে আরও গল্প। শিবাজিবাবুর কথা অনুযায়ী, বঙ্গে বর্গী
আক্রমণের সময় সেনাপতি কালাপাহাড় বিভিন্ন মন্দিরে ধ্বংসলীলা চালাচ্ছিলেন।সুলেমান কারনানের সেনা জেনারেল ছিলেন কালাপাহাড় মন্দির ও স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করাই ছিল তার প্রধান উদ্দেশ্য। কিন্তু মন্দিরে এসে থমকে যান তিনি। ধ্বংস তো দূরদূ স্ত উল্টে মায়ের পুজো করে সেখান থেকে ফিরে যান
কালাপাহাড়। এমনকি এই মন্দিরের সঙ্গে চিনা পরিব্রাজক ফা হিয়েন, হিউয়েন সাং এবং অশোক
পুত্রের সিংহল যাত্রার কাহিনীও জড়িয়ে রয়েছে বলে জানাচ্ছেন মন্দির কমিটির সম্পাদক।
তমলুকবাসীর বিশ্বাস শহরের যেখানেই শক্তি পুজো হোক না কেন, আগে পুজো দিতে হবে মা
বর্গভীমাকে। আর সেই বিশ্বাসেই বিভিন্ন উৎসব পার্বনে তো বটেই, বছরের অন্যান্য দিনেও ভিড়
লেগে থাকে মা বর্গভীমার দ্বারে।
মায়ের নামকরণের অর্থ ব্যাখ্যা করে মন্দিরের (Bargabhima Mandir) সেবায়েত তথা আইনজীবী সমীরণ অধিকারী বলেন, ধর্ম-অর্থ-কাম ও মোক্ষ। এই চারটি বর্গ দান করেন বলেই মায়ের নাম দেবী বর্গভীমা। নীল তন্ত্র মতে মায়ের আরাধনা করা হয় এখানে। কালীপুজোর দিন রাজবেশে মাকে সাজিয়ে মহা ধুমধামে পুজো হয়। বছরের অন্য দিনগুলিতে মাকে ভোর চারটেয় স্নান করিয়ে স্বর্নালঙ্কারে সাজানো হয়। অন্নভোগে নানা ব্যঞ্জনের পাশাপাশি এখনও রোজ মাকে নিবেদন করা হয় শোল মাছের ঝোল। ভক্তরাও মাকে মিষ্টি ভোগের পাশাপাশি মনোবাঞ্ছা পূরণে তাল, ওল, কচু এবং শোল মাছ নিয়ে মন্দিরে হাজির হন। ভিন ধর্মের মানুষজনও আসেন এই মন্দিরে।
দেবি মায়ের প্রতিদিন নিত্য পূজা ও ভোগ হয় দর্শনারথীরা মন্দির এ বসে মায়ের ভোগ সেবা করতে পারেন । ভোগ খওয়ার জন্য কুপন সংগ্রহ করে নিতে হবে।
মন্দিরে আসতে গেলে হসপিটাল মোড় , শুঁকর আড়া , মানিকতলা বাস স্টপেজে নেমে টোটো কে বললেই পৌঁছে দেবে । ২০ টাকা ভাড়া নেবে।
নিজস্ব ব্যাক্তিগত গাড়ি নিয়ে এলে মন্দির পাশাপাশি গাড়ি পাক্রিং সুবিধা আছে।
Bargabhima Temple : Tamluk
Bargabhima
Temple is a Hindu temple in Tamluk near Kolkata in Purba
Medinipur district of West
Bengal. It is around
87.2 km from Kolkata, 85 km from Kharagpur. It is well
connected by NH-6 and south eastern railway tracks.
This temple is major
historical spots in Purba Medinipur district. It is old Hindu Kali temple,
1150 years old and built by maharaja of Mayor dynasty. This temple is
considered as 51 shakti peth of mother Durga where left ankle of of Sati/Parvati fell here when Lord Vishnu cut
the sacred Body of Goddess Sati into several pieces to make Lord Shiva quite.The temple has been declared by Heritage Site by West
Bengal Govt. The current temple is not very old a it was rebuilt after the
Islamic occupation of Bengal in the Middle Ages.In old Bengali literature the
temple was mentioned several times. The temple is the mixture of three
cultural combinations Hindu, Buddhist and Oriya. The local people makes huge
festival on Durga Puja and Bengali new year in this temple.


Comments
Post a Comment