এই তমলুক এর প্রাচীন নাম তাম্রলিপ্ত ছিল তার কারন সেই সময় তাম্রযুগ নামে পরিচিত ইতিহাসে যে যুগে তামা ধাতুর প্রচলন শুরু হয় এবং তাম্রলিপ্ত তামা ধাতুর জন্য প্রসিদ্ধ ছিল ।
১৯৩০ সালে লবণ সত্যাগ্রহের সময় রাজপরিবারের এক বড় ভূমিকা ছিল। নরঘাট এ লবণ আইন ভঙ্গের জন্য বিশাল মিছিল রাজবাড়ী থেকে রওনা হয়েছিল। নেতৃত্বে ছিলেন এই রাজবাড়ীর সদস্য ধীরেন্দ্র নারায়ন।
আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে বর্তমানে ঝাড়খন্ডে সিংভূম এলাকায় তামার খনি খুঁজে পাওয়া যায়। সেকালে তামা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাতু ছিল। এই তামা শুধু ভারতীয় ব্যবহার করা হতো না দেশ বিদেশে রপ্তানি করা হতো। দক্ষিনে বঙ্গব সাগরে কাছে রূপনারায়ন নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল এক বিশাল বন্দর। যেহেতু বিপুল পরিমাণে তামা এই বন্দর থেকে রপ্তানি করা হতো তাই এই জায়গাটি তাম্রলিপ্ত বন্দর নামে পরিচিত। ঐতিহাসিক সূত্র মতে ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৪০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এখানে রমরমিয়ে বাণিজ্য চলে। ধীরে ধীরে তামার পাশাপাশি রেশম, মসলা ,নীল এইসব বাণিজ্য শুরু হয়। ভারতে ৩২২ খ্রিস্টাব্দ থেকে মৌর্য বংশের শাসন শুরু হয়। মৌর্য বংশের সাম্রাজ্য ছিল পাটলিপুত্র।
রাজধানীর কাছে তেমন ভালো বন্দর ছিলনা কারণ সে সময় তাম্রলিপ্ত বন্দর ছিল কলিঙ্গ রাজ্যের অন্তর্গত ফলে বাণিজ্যিক দিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিল মৌর্য বংশ। ঐতিহাসিক সূত্রমতে সম্রাট অশোক যখন সিংহাসনে বসেন তিনি তাম্রলিপ্ত বন্দরটি মৌর্য বংশের অধীনে আনার জন্য কলিঙ্গ আক্রমণ করেন। কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে সম্রাট অশোক হিংসা ছেড়ে অহিংসা ধর্ম নেন। তিনি বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হন। এর পর থেকে তাম্রলিপ্ত বন্দর বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারে ব্যাপকভাবে বিবৃত হয়। অশোক তার ছেলে মহেন্দ্র এবং মেয়ে সংঘমিত্র কে সিংহল অর্থাৎ বর্তমানে শ্রীলংকায় পাঠায়। এছাড়া সুবর্ণভূমি যা থাইল্যান্ড নামে পরিচিত চীনি, জাভা ,বিভিন্ন দেশে দূত পাঠান ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে। সে সময় বহু ধর্ম ধর্মীয়রা এই বন্দরপথে ভারতে আসতেন বট গাছের বীজ নিয়ে যেতেন। যে বটগাছের নিচে সাধনা করে গৌতম বুদ্ধ সিদ্ধিলাভ করেছিলেন।
চীনি মংক হু ন সাং এসেছিলেন এই তাম্রলিপ্তে বুদ্ধ ধর্ম প্রচার এর জন্য এবং তিনি এই তাম্রলিপ্ত বন্দর হয়ে পাড়ি দিয়ে ছিলেন অন্যত্র স্থানে ।
সর্বপ্রথম ইংরেজরা এই বন্দর থেকেই কলকাতা পাড়ি দিয়েছিলেন । তারপর ইংরেজরা তাদের রাজধানী গড়ে তোলেন কলকাতায় এবং কলকাতা বন্দর গড়ে তোলেন ।
বর্তমানে রুপনারায়ণ নদীতে চর পড়ে যাওয়ায় জাহাজের আনাগোনা কমে যায় ফলে এই বন্দর আজ ইতিহাস হয়ে রয়ে যায়।
নজরুল ও সুভাষচন্দ্র বসু যে তমলুকে এসেছিলেন তারই প্রতিফলন রয়েছে রাজবাড়ির প্রবেশপথের দু’পাশে মর্মর মূর্তিতে।
রাধামাধব ও রাধারমণ মন্দির : রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষের ডান দিকে রয়েছে রাধামাধব ও রাধারমণ মন্দির। উত্তরেরটি রাধামাধবের এবং দক্ষিণেরটি রাধারমণের। মন্দিরগুলিতে কোনও প্রতিষ্ঠালিপি না থাকলেও রাজা লক্ষীনারায়ণকেই এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা বলে মনে করা হয়। রথযাত্রা ও ঝুলন বিশেষ উৎসব হিসাবে পালিত হয়।
---------------------------------------------------------------------
তমলুক বহু প্রাচীন শহর, এর অলিতে গলিতে ইতিহাস। হাওড়া স্টেশন থেকে খড়গপুরগামী ট্রেনে মেচেদা স্টেশন। সেখান থেকে বাসে ৩০ মিনিটের মধ্যেই মানিকতলা বাস স্টপেজে নেমে ১০ মিনিটে অতীতের তাম্রলিপ্ত বা তমলুকে যাওয়া যায়।
মানিকতলা বাস স্টপেজ থেকে টোটো করে তমলুক থানা বা রাজবাড়ি । ভাড়া - ১০.০০




Comments
Post a Comment