জিষ্ণুহরি মন্দির
জগন্নাথ মন্দির
থেকে
খানিকটা সামনে
এগিয়ে
গেলে
পড়বে
জিষ্ণুহরি মন্দির। এটি
পুরাকীর্তির এক
অন্যতম
নিদর্শন। মহাভারতেও আমরা
তাম্রলিপ্তের উল্লেখ
দেখতে
পাই।
তাম্রলিপ্ত ছিল
রাজা
তাম্রধ্বজের রাজধানী। অশ্বমেধ যজ্ঞের
সময়
পাণ্ডবগণের অশ্ব
এই
তাম্রধ্বজ ধারণ
করেন
ও
মহাবীর
অর্জুনের সঙ্গে
তাঁর
ভয়ানক
যুদ্ধ
হয়।
তাঁর
বীরত্বে প্রীত
হয়ে
কৃষ্ণ
ও
অর্জুন
তাঁর
সঙ্গে
সখ্যসূত্রে আবদ্ধ
হন।
কৃষ্ণ
ও
অর্জুনের যে
মূর্তি
রাজা
প্রতিষ্ঠিত করেন
তাই
জিষ্ণুহরি নামে
তমলুকের রাজবাড়িতে পূজিত
হচ্ছে।
রাজা
সর্বদা
নরনারায়ণরূপী কৃষ্ণ-অর্জুনের সান্নিধ্যে থাকতে ও সর্বদা
তাদের
দেখতে
পাবেন
এই
অভিপ্রায়ে এই
মন্দির
নির্মাণ করেন।
মন্দিরের পাশে
একটি
বিজ্ঞপ্তিতে লেখা
রয়েছে,
এটি
দ্বাপর
যুগের
মন্দির
অর্থাৎ
আনুমানিক একাদশ
শতাব্দীর। আসলে
দ্বাপর
যুগের
মন্দির
কবেই
রূপনারায়ণের গর্ভে
বিলীন
হয়ে
গেছে।
প্রায়
৫০০
বছর
আগে
এক
গোপাঙ্গনা বর্তমানে মন্দিরটি নির্মাণ করে
দেন।
মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছে
দুটি
প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি। এই
মূর্তিদ্বয়ই জিষ্ণুনারায়ণ নামে
খ্যাত।
মূর্তিদুটি সত্যি
অসাধারণ, দেখলেই
মনে
হয়
বেশ
প্রাচীন। আমরা
সচরাচর
যেরকম
বিষ্ণুমূর্তি দেখি
ঠিক
সেরকম
নয়,
একটু
আলাদা
ধরনের।
বিষ্ণুমূর্তিটির ওপরের
ডান
হাতে
শঙ্খ
ও
নীচের
হাতে
চক্র
ও
ওপরের
বাম
হাতে
গদা
ও
নীচের
হাত
পদ্মশোভিত। অর্জুনের মূর্তির ওপরের
ডান
হাতে
গদা
ও
নীচের
হাতে
পদ্ম
এবং
ওপরের
বাম
হাতে
শঙ্খ
ও
নীচের
হাতে
চক্র
শোভা
পাচ্ছে। প্রতি
মূর্তির দু’পাশে দুটি গন্ধর্ব রয়েছে
উড়ন্ত
অবস্থায় এবং
নীচে
রয়েছে
অপ্সরাদ্বয়। সকলের
নীচে
দুজন
করে
প্রার্থনারত ভক্ত।
মন্দিরের গায়ে
কোনও
লিপি
নেই।
মন্দিরের বাইরের
দেওয়ালে টেরাকোটার কাজ
কিছু
থাকলেও
রঙের
প্রলেপে তা
এখন
অস্পষ্ট। সামনে
রয়েছে
একটু
অন্যরকমের তুলসীমঞ্চ।
খাটপুকুর জলাশয়
জলাশয়টি বেশ বড়। এটি একটি প্রাচীন সরোবরও বটে। কথিত আছে, রাজা তাম্রধ্বজ ও তাঁর রানি এক প্রকাণ্ড দীঘি খনন করে তার মধ্যে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করার সময় উভয়ে জলমগ্ন হয়ে প্রাণত্যাগ করেন। বর্তমানে ওই দীঘিটিই খাটপুকুর নামে পরিচিত। এটি আবার নেতি ধোপানির ঘাট বলেও পরিচিত। এর তীরে খনন করে বেশ কিছু পুরাবস্তু পাওয়া গেছে।
জগন্নাথ মন্দির
সুপরিচিত জলাশয় খাটপুকুরের দক্ষিণ তীরে উঁচু বেদির ওপর বড়সড় এই মন্দিরটির অবস্থিত শোনা যায়, তমলুকের রাজা আনন্দনারায়ণ রায় মন্দিরটির নির্মাণ করে দেন আর রাজা শ্রীমন্ত রায় জগন্নাথদেবকে এই মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেন। মন্দিরটি পূর্বমুখী ও আটচালা। মন্দির অভ্যন্তরে বিরাজ করছেন জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা। সুন্দর বড় বড় দারুমূর্তি, খুবই আকর্ষণীয়। বয়স আনুমানিক ২৫০ বছর।


Comments
Post a Comment